এক নজরে:

  • কোথায় দেখবেন: ZEE5

  • পরিচালক: অভিরূপ ঘোষ

  • ধরণ: ডার্ক থ্রিলার / অ্যাকশন / সোশ্যাল ড্রামা

  • আমার রেটিং: ৭.৫ / ১০

বাংলা ওয়েব সিরিজের দুনিয়ায় নারীদের গল্প বা নারী ক্ষমতায়নের নামে যে ‘ক্লিন’ বা ‘স্যানিটাইজড’ ছবি আমরা দেখতে অভ্যস্ত, ‘কালীপটকা’ শুরুতেই সেই চেনা ছক ভেঙে চুরমার করে দেয়। নামেই এটি ‘পটকা’, কিন্তু এর অভিঘাত রীতিমতো বোমার মতো। সমাজের একদম নিচুতলার চারটে সাধারণ মেয়ের খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর এক ডার্ক, র (Raw) এবং একেবারে আনঅ্যাপোলজেটিক (Unapologetic) গল্প বলে জি ফাইভের এই নতুন সিরিজ। তথাকথিত ‘ভদ্রতা’-র মুখোশ সরিয়ে সমাজের এক নোংরা, রূঢ় বাস্তবতাকে দর্শকদের সামনে ছুঁড়ে দেয় এই গল্প।

গল্পের প্রেক্ষাপট: অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই

গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে চার নারী— শ্রীমা (স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়), রানি (শ্রুতি দাস), মিনতি (শ্রেয়া ভট্টাচার্য) এবং রিঙ্কু (হিমিকা বোস)। মিনতির স্বামীর আকস্মিক ও অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সম্পূর্ণ ভিন্ন আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট থেকে আসা এই চারজন এক সুতোয় বাঁধা পড়ে যায়। লাশ গুম করতে গিয়ে তারা নিজেদের অজান্তেই জড়িয়ে পড়ে এক মিথ্যে আর বিপদের চরম জালে। একদিকে পুলিশের নিরন্তর তাড়া, অন্যদিকে রানা (অনির্বাণ চক্রবর্তী) নামের এক ভয়ংকর প্রাক্তন কয়েদির আক্রোশ। সব মিলিয়ে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে বাধ্য হয়েই এক ভয়ংকর লড়াইয়ে নামতে হয় এই চার নারীকে।

অভিনয়: স্বস্তিকা ও অনির্বাণের অনবদ্য যুগলবন্দি

অভিনয়ের দিক থেকে ‘কালীপটকা’ রীতিমতো বাজিমাত করেছে।
  • স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়: শ্রীমা চরিত্রে তিনি অনবদ্য। পর্দায় তাঁর উপস্থিতি, শরীরী ভাষা এবং বেপরোয়া মানসিকতা দর্শকদের স্ক্রিনের সাথে আটকে রাখে।
  • অনির্বাণ চক্রবর্তী: ‘একেনবাবু’ খ্যাত অনির্বাণকে এখানে এক সম্পূর্ণ ভিন্ন, রুক্ষ এবং ভয়ংকর খলনায়ক ‘রানা’-র চরিত্রে দেখে চমকে যেতে হয়। তাঁর ইনটেন্স স্ক্রিন প্রেজেন্স সিরিজের অন্যতম বড় পাওনা।
  • শ্রুতি দাস, শ্রেয়া ভট্টাচার্য এবং হিমিকা বোস প্রত্যেকেই নিজ নিজ চরিত্রে যথেষ্ট বাস্তবসম্মত এবং শক্তিশালী অভিনয় করেছেন।

নির্মাণ ও সংলাপ: কাঁচা, রুক্ষ এবং বাস্তব

পরিচালক অভিরূপ ঘোষ এমন একটা গল্প বলেছেন, যা ড্রয়িংরুমের আভিজাত্যের তোয়াক্কা করে না। সিরিজের সংলাপ প্রচণ্ড বোল্ড এবং প্রচুর গালিগালাজে (খিস্তি) ভরা। অনেকের কাছে এটি অস্বস্তিকর বা ‘লাউড’ লাগতে পারে। কিন্তু চরিত্রের আর্থ-সামাজিক অবস্থান এবং তাদের টিকে থাকার লড়াইয়ের তীব্রতা বোঝাতে এই কাঁচা ভাষার ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি ছিল। গল্পে কিছু জায়গায় লজিকের সামান্য ফাঁক বা ন্যারেটিভের ধীর গতি চোখে পড়লেও, টানটান চিত্রনাট্য সেটা অনেকটাই পুষিয়ে দেয়।

কাদের দেখা উচিত?

‘কালীপটকা’ সবার জন্য নয়। আপনি যদি পরিচ্ছন্ন, মিষ্টি বা ফিল-গুড কোনও গল্পের খোঁজ করেন, তবে এই সিরিজ আপনার জন্য নয়। কিন্তু আপনি যদি ডার্ক, বোল্ড এবং সমাজের অন্ধকার দিকগুলো নিয়ে তৈরি বাস্তবধর্মী থ্রিলার পছন্দ করেন, তবে এই সাত এপিসোডের সিরিজটি আপনাকে হতাশ করবে না। এটি এমন এক সিরিজ যা নারীদের শুধু আবেগপ্রবণ বা দুর্বল হিসেবে নয়, বরং সমস্ত বঞ্চনার বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়ানো এক শক্তিশালী প্রতিবাদের রূপক হিসেবে তুলে ধরেছে।
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x