অভিনয়ে কে কেমন?
কৌশানি মুখোপাধ্যায়: চিরপরিচিত গ্ল্যামারাস ইমেজের বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ ডি-গ্ল্যাম লুকে কৌশানি এখানে দর্শকদের চমকে দিয়েছেন। জয়িতার অসহায়তা, মানসিক টানাপোড়েন এবং পরবর্তীতে প্রতিবাদী সত্তার যে রূপান্তর, তা তিনি বেশ যত্ন নিয়ে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন। এই সাহসী চরিত্রটি নিঃসন্দেহে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা কাজ।
কৌশিক সেন: কোর্টরুমের লড়াইয়ে বিপক্ষের দুঁদে আইনজীবীর চরিত্রে তিনি বরাবরের মতোই অনবদ্য এবং তীক্ষ্ণ। তাঁর এবং জয়িতার আইনি যুক্তিতর্কের দৃশ্যগুলো সিরিজের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।
পার্শ্বচরিত্র: খলনায়কের চরিত্রে সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায় যথেষ্ট সাবলীল ও বিশ্বাসযোগ্য। এছাড়াও রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় এবং জয়িতার ভাইয়ের চরিত্রে জিৎ সুন্দর চক্রবর্তী গল্পের প্রয়োজনে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন।
প্লাস পয়েন্ট ও মাইনাস পয়েন্ট
সিরিজটির সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হলো এর বিষয়বস্তু। কর্মক্ষেত্রে নারীদের নিরাপত্তা এবং শত প্রতিকূলতার মাঝেও হার না মানার যে বার্তা পরিচালক দিতে চেয়েছেন, তা বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। কোর্টরুমের ভেতরের ড্রামা দর্শককে স্ক্রিনে ধরে রাখে।
তবে নেতিবাচক দিক বলতে গেলে, চিত্রনাট্যের কিছু জায়গায় দুর্বলতা রয়েছে। অনেক ঘটনাই আগে থেকে বেশ সহজে অনুমান করা যায়। ওয়েব সিরিজের চেনা ছকের বাইরে গিয়ে গল্পটি খুব বেশি চমক দিতে পারেনি, যার ফলে মাঝে মাঝেই সিরিজের গতি একটু ধীর বলে মনে হতে পারে।
চূড়ান্ত মতামত
সব মিলিয়ে আমার তরফ থেকে এই সিরিজের রেটিং ৬.৫/১০। প্রাসঙ্গিক বিষয়বস্তু এবং কলাকুশলীদের সৎ প্রচেষ্টার জন্য এটি নিশ্চিতভাবেই উইকেন্ডে একবার দেখার মতো (One-time watch) একটি সিরিজ। তবে চিত্রনাট্যের বুনন আরেকটু মজবুত ও ধারালো হলে সিরিজটি দর্শকের মনে আরও গভীর দাগ কাটতে পারত।