খবরের কাগজ বা সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই আজকাল ‘এইচপিভি ভ্যাকসিন’ (HPV Vaccine) নিয়ে প্রচুর আলোচনা চোখে পড়ছে। এর কারণ হলো, ভারত সরকারের নেওয়া একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। জরায়ু মুখ বা সার্ভিকাল ক্যান্সার (Cervical Cancer) প্রতিরোধে দেশজুড়ে বিনামূল্যে এক মেগা টিকাকরণ কর্মসূচি শুরু হতে চলেছে। কিন্তু এই টিকা কেন এত জরুরি? আসুন, সহজ করে বিষয়টা বুঝে নেওয়া যাক।

এইচপিভি (HPV) আসলে কী

এইচপিভি বা ‘হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস’ হলো অত্যন্ত সাধারণ একটি ভাইরাস। এর দুশোর বেশি ধরন বা প্রজাতি রয়েছে, যার মধ্যে বেশ কিছু প্রজাতি মূলত শারীরিক মিলনের মাধ্যমে ছড়ায়। আমাদের অনেকের শরীরেই কখনো না কখনো এই ভাইরাস বাসা বাঁধে, তবে শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে বেশিরভাগ সময়ই তা নিজে থেকে সেরে যায় এবং আমরা টেরও পাই না।

ক্যান্সারের সাথে এর সম্পর্ক কোথায়?

সব এইচপিভি বিপজ্জনক না হলেও, এর কিছু ধরন (বিশেষ করে টাইপ ১৬ এবং ১৮) অত্যন্ত মারাত্মক। এগুলো দীর্ঘদিন শরীরে থেকে গেলে জরায়ু মুখের কোষে অস্বাভাবিক পরিবর্তন আনে, যা পরে ক্যান্সারের আকার ধারণ করে। বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭০ শতাংশ সার্ভিকাল ক্যান্সারের জন্যই সরাসরি দায়ী এই ভাইরাস।

ভারতের জন্য এই টিকা কেন এতটা জরুরি?

পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে রীতিমতো শিউরে উঠতে হয়। আমাদের দেশে মহিলাদের ক্যান্সারে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হলো এই জরায়ু মুখের ক্যান্সার। সারা বিশ্বে এই রোগে আক্রান্তদের প্রতি পাঁচজনের একজন ভারতীয়। প্রতি বছর প্রায় ৮০ হাজার মহিলা নতুন করে এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হন এবং প্রায় ৪২ হাজার অকালে প্রাণ হারান। অথচ, সঠিক সময়ে একটি মাত্র টিকা নিলেই এই ভয়াবহ মারণরোগকে প্রায় পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব!

সরকারের মেগা প্ল্যান: কাদের জন্য এই টিকা?

ভারত সরকারের এই বিশাল প্রজেক্টের মূল লক্ষ্য হলো ১৪ বছর বয়সী কিশোরীরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, শারীরিক সম্পর্ক শুরু হওয়ার আগে, অর্থাৎ এই ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার আগেই টিকা দিলে তা সবচেয়ে ভালো কাজ করে। এই বয়সে টিকা নিলে শরীরে সবচেয়ে শক্তিশালী এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে।

কোথায় ও কীভাবে মিলবে এই টিকা?

এই কর্মসূচিতে দেওয়া হবে ‘গারডাসিল’ (Gardasil) নামের অত্যন্ত কার্যকরী একটি টিকা। এটি এইচপিভির সবথেকে বিপজ্জনক চারটি ধরন থেকে মেয়েদের সুরক্ষা দেবে। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই টিকা পাওয়া যাবে সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, জেলা হাসপাতাল বা ‘আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির’-এ। টিকার গুণমান যাতে নষ্ট না হয় এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে যাতে তা দেওয়া যায়, সেই জন্যই এই সুরক্ষিত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এটি নিছকই একটি টিকাকরণ অভিযান নয়, বরং দেশের লাখ লাখ মেয়ের জীবন বাঁচানোর এক মহৎ উদ্যোগ। একটুখানি সচেতনতাই পারে আমাদের আগামী প্রজন্মকে ক্যান্সারের মতো মারণরোগ থেকে সুরক্ষিত রাখতে।
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x